পঞ্চগড়ে ছাত্রদল কর্মী জাবেদ উমর জয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পঞ্চগড় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ইসমাইল হোসেন ঝুনু (২৪) কে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে জেলা শহরের কায়েতপাড়া এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় জয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় পৌর সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মাহাফুজার রহমান রতন বলেন, ঝুনু ৬ নম্বর ওয়ার্ড সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন। আমরা তাকে ২০২২ সালেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছি।
এর আগে বুধবার রাতে পঞ্চগড় শহরের সিনেমা হল মার্কেট এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে ছাত্রদল কর্মী ফারাজ ইসলাম আল আমিন ছুরিকাঘাত করেন জয়কে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত জাবেদ উমর জয় পঞ্চগড় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্য এবং ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার কলেজিয়েট ইন্সটিটিউটের চলতি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি জেলা শহরের কদমতলা এলাকার সূচনা ফল ঘরে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে পুলিশ জয়-এর মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌর জানাজা ঘরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে জয়ের সহপাঠী, পঞ্চগড় বি পি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বিপিয়ান’ সদস্যরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। সকাল ১১টায় চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এ সময় তারা ‘ফাঁসি চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধে পঞ্চগড়-তেতুঁলিয়া মহাসড়কের উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শইমী ইমতিয়াজ এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হিল জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। এরপর তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যান এবং সেখানে আবারো বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
জয়ের বড় ভাই আশরাফ আলী বলেন, যখন আমার ভাইকে খুন করা হয় তখন ঝুনু, আল আমিন সেখানে উপস্থিত ছিল। আমি বাদী হয়ে আজ সন্ধ্যায় হত্যা মামলা দায়ের করবো। আমরা খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, ঝুনুকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
