রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আবারও খুন। এবার এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতের বাবা আবুল কাশেম গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার বলছে, ছিনতাই করে নেয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় এমন নৃশংস খুনের ঘটনা। স্থানীয় যুবদল নেতা সুজন ওরফে নাডা সুজনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুক্তভোগি পরিবারের।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিট। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকার ডি ব্লকের ৩ নম্বর রোডের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দৃর্বৃত্ত দ্রুত গতিতে যাচ্ছে কাশেম টি স্টোরের দিকে।
চা দোকানদার আবুল কাশেম ও তার ছেলে বিল্লাল হোসেন বাবুকে কুপিয়ে যখম করে। মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই আবার তারা দৌড়ে স্থান ত্যাগ করে।
চা দোকানের সঙ্গেই বাড়ি আবুল কাশেমের বাড়ি। পরিবার বলছে, বাবাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে দৃর্বত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান ছেলে বাবু।
নিহতের মা পারভিন বেগমের দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছেন। বলছেন, ছিনতাই করে নেয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় এমন নৃশংস ঘটনা।
নিহতের মা পারভিন বেগম বলেন, ওই রাজিব, আমার ভাইয়ের ৭৫ হাজার টাকা ছিনতাই করেছিল। ওই বিষয় নিয়ে আমার জামাই বলেছিল, রাজিব, গরিব মানুষটাকে কোপাইলা, কোনো ক্ষতিপূরণও দিলা না, আবারও কোপাইছ?
স্থানীয় যুবদল নেতা সুজন ওরফে নাডা সুজনসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেন পারভিন। সেইসঙ্গে এমন খুনের কঠোর বিচারের দাবিও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আজকে কোপাইলো মোহন, সবুজ, নাডা সুজন ও বিএনপি করে, রাজীব, রুবেল ওরা কোপাইছে। আরও কিছু লোক আছে ওদের আমি চিনি নাই।
নিহত বাবুর মামা হানিফ বিশ্বাসও গেল ৮ মাস আগে একই সন্ত্রাসী গ্রুপের হামালার শিকার হয়েছিলেন, দেখাচ্ছিলেন শরীরে থাকা সেই বর্বরতার চিহ্ন।
হানিফ বিশ্বাস বলেন, ছিনতাই করা টাকা ফেরত চাইতেই আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমি মামলাও করেছি।
পুলিশ বলছে, টাকা লেনদেন ছাড়াও ঘটনার নেপথ্যের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, আমরা কিছু আসামির নাম পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আরও কয়েকটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মূলত টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়েই তাদের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল।
ঘটনায় গুরুতর জখম আবুল কাশেম রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
