চাঁদা না পেয়ে জমি দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চাঁদা না দেওয়ায় মামলা ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন একই ইউনিয়নের কাংশা গ্রামের শেখ গেদু মিয়ার ছেলে ভুক্তভোগী প্রবাসী লাভলু মিয়া।

৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী প্রবাসী লাভলু মিয়ার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আব্দুল হাই। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ২০১৩ সালের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আসামি করা হয়। মামলায় কারাবরণ করে জামিনে এলেও তার স্বস্তি নেই। আব্দুল হাই দলবল নিয়ে বিনোদপুর বড় খন্ড মৌজার আরএস ৫৩০২, ৫৩০৩, ৫৪৫৯ সহ কয়েকটি দাগের ২৬ শতাংশ জমি জোর করে খুঁটি পুঁতে দখলের চেষ্টা করেন। এমতবস্থায় সংশয় ও আতঙ্কে আছেন ভুক্তভোগী লাভলু মিয়া।

ভুক্তভোগী লাভলু মিয়া বলেন, আমি ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রবাসে ছিলাম। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না, পদ-পদবিও নেই। ৫ আগস্টের পর আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আব্দুল হাই। টাকা না দিলে আমাকে ২০১৩ সালের হত্যা মামলায় আসামি করে। তখন আমি প্রবাসে ছিলাম। আমি জামিনে আসলে আব্দুল হাইসহ ১০-১২ জন লোক নিয়ে এসে জোর করে আমার জায়গায় খুঁটি পুঁতে দখল করে। আমি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ এসেও ২৬ শতাংশ জায়গায় খুঁটি পুঁতে চলে যায়। চারটি খুঁটি উঠালে আমাদেরও পুঁতে ফেলবেন বলে হুমকি দেয়। চাঁদার টাকা না পেয়ে তারা এরকম করছে। তারা কোনো কাগজ দেখাতে পারে না।

প্রতিবেশী মীর হোসেন বলেন, জন্মের পর থেকেই এ জমি লাভলু মিয়াদের ভোগ দখলে দেখছি। তার বাবা শেখ গেদু মিয়া প্রায় ৫০ বছর আগে জমিটি ক্রয় করে ভোগ দখল করেন। এটা এখন জুলুম। আইনের মাধ্যমে সমাধান চাই আমরা।

অভিযুক্ত আব্দুল হাই বলেন, লাভলুকে সামনে পাইলে খবর ছিল, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

সিংগাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান রুমান বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে দেখেন। আমি এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানিনা।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুল ইসলাম সোহাগ বলেন, প্রতিদিনই তো বিভিন্ন ডাক ফাইল আসে। এখন তো মনে করতে পারছি না।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email