ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে হাজী মো. রুহুল আমিন নামে এক বৃদ্ধের প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রবিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চরফ্যাশন রির্পোটার্স ইউনিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
রুহুল আমিন চরফ্যাশন পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ছাদেক হাওলাদারের ছেল। অভিযুক্তরা হলেনÑ একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে ফারুক মাস্টার, তার দুই জামাতা চরফ্যাশন পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. শিমুল মাস্টার ও মো. লোকমান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন জানান, দীর্ঘ ৩৭ বছর প্রবাসের অর্জিত আয়ের টাকা দিয়ে উপজেলার জিন্নাগড় মৌজায় ১ একর ৪০ শতাংশ জমি কিনে ভোগদখলে থেকে বসবাস করে আসছেন। ওই জমি কেনার কয়েক বছর পর তার প্রতিবেশী ফারুক মাস্টার ও তার দুই জামাতা মো. লোকমান হোসেন, শিমুল মাস্টার জমি দখলের চেষ্টা করেন। তারা তার কেনা ও রেকর্ডীয় জমি থেকে রেকর্ড নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে জমি দখল করতে চায়। বাধা দিলে তাকে কয়েকবার মারধর করে। তার নামে কয়েকটি মিথ্যা মামলাও করেছেন। স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য সালিশগণ চেষ্টা করলেও ফারুক মাস্টার ও তার মেয়ের জামাই শিমুল মাস্টারের অসহযোগিতার কারণে সমাধান হয়নি।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তারা একটি পরিত্যক্ত ঘর ভেঙে তা দখলে নেয়। ভিটাছাড়া করতে হত্যার হুমকি দেয়। তিনি তার জীবন নিয়ে শঙ্কিত। ফারুক মাস্টারের মেয়ের জামাই শিমুল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রছায়ায় তাকে ও তার পরিবারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার নির্যাতন করেছেন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্প্রতি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রভাব দেখিয়ে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার ঘর ভেঙে ভিটাসহ অবশিষ্ট জায়গা দখলের পাঁয়তারা করছে। তিনি ৮১ বছর বয়সি একজন বৃদ্ধ, তার কোনো ছেলে নাই। ৩০ বছর ধরে ফারুক মাস্টার গংরা তার ওপর হামলা-মামলা করে আসছেন। তাদের হামলা-মামলা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফারুক মাস্টারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনো একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যায়নি। তবে তার জামাতা চরফ্যাশন পৌর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক শিমুল মাস্টার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ হাজী রুহুল আমিনের আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমরা আমাদের ক্রয়কৃত জমি ভোগদখলে রয়েছি।
চরফ্যাশন থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ওই জমিটি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন পর্যন্ত বিরোধ চলমান রয়েছে। বিরোধটি আদালত বা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হতে পারে। এটি পুলিশের কাজ না। তারপরও ওই বৃদ্ধ লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
