বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, মিথ্যা মামলা দিয়ে এলাকার মানুষকে হয়রানি করা, বালু ব্যবসা হাতিয়ে নেয়া, বিভিন্ন কারখানা শ্রমিক সরবরাহসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে বিএনপি নেতা বাছেদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে নারহাট এলাকায় গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে ভয় কেউ মুখ খুলতে চায় না।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সিএনবির জমিতে গড়ে অবৈধ একাধিক বালুর ব্যবসা (গদি) নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তার। নদীর পাড় দখল করে গড়ে ওঠা এসব বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ প্রকাশ্যে না এলেও মাসোহারা ঠিকই যাচ্ছে তার পকেটে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্বিঘেœ অবৈধ বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের সঙ্গে আঁতাত করে এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা চালিয়ে গেছেন।
সারাদেশে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিগত ১৭ বছর মামলা-হামলার শিকার হলেও আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে বাছেদ দেওয়ান এলাকায় নির্বিঘেœ অবৈধ বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন কর্মকা- চালিয়ে গেছেন। এছাড়াও ৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়া পাথালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের সাথে তার ঘনিষ্ঠতার কারণে ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো এলাকায় নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তবে বাছেদ দেওয়ানের বিষয়ে এলাকার অনেকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তার নাম শুনেই কেউ কথা বলতে চায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাথালিয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাছেদ দেওয়ানের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এলাকায় নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়িয়েছে। এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের সমস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করছেন বাছেদ দেওয়ান। এছাড়াও বাছেদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের স্ত্রী-সন্তানসহ সবাইকে নিরাপদে রাখতে সহযোগিতা করে আসছেন এই বাছেদ দেওয়ান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক লোকজন বলেন, বাছেদ দেওয়ান বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা-হামলার ঘটনা ঘটেনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাথালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বাছেদ দেওয়ান নয়ারহাট এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। কারখানায় শ্রমিক সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজ নিজের দখলে নিয়েছেন।
এসব বিষয়ে জানতে পাথালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বাছেদ দেওয়ানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
