বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে পথরোধ করে মারধর এবং স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
মামলার আসামি হলেন সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিন হোসেন (২৪) এবং তার বড় ভাই রকি হোসেন (৩৪)। তারা দুজনই সান্তাহার পৌর শহরের কলসা পুরাতন বাজার এলাকার মৃত ইয়াচিন আলীর ছেলে। ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন (৩৫) আদমদীঘি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে তোফাজ্জল হোসেন তার শ্যালক সজীব হোসেনের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ির পাশের একটি দোকানে পান কিনতে যান। পান নিয়ে ফেরার পথে সান্তাহার পৌর শহরের হলুদঘর পুরাতন বাজার এলাকায় সজীবের চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে রকি হোসেন তার পথরোধ করে কোনো উসকানি ছাড়াই মারধর শুরু করেন।
মারধরের কারণ জানতে চাইলে রকি হোসেন ঘটনাস্থলে তার ভাই রবিন হোসেনকে ডেকে নেন। পরে রবিন সেখানে এসে চায়ের দোকানের পাশে পড়ে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছের একটি ডাল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তোফাজ্জল হোসেনের ওপর সজোরে আঘাত করেন। আঘাত এড়াতে গেলে তার বাম গালে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এরপর দুই ভাই মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম সৃষ্টি করেন।
একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে ভুক্তভোগী চিৎকার দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে রকি হোসেন কোমরে থাকা ধারালো চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে অভিযুক্তরা তার কাছ থেকে এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, আট আনা ওজনের একটি আংটি, একটি হাতঘড়ি এবং শ্যালকের বিয়ের খরচের জন্য রাখা নগদ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তোফাজ্জল হোসেনকে মোটরসাইকেলে করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ঘটনার পর একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক রবিন হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
