কুড়িগ্রামে ৬ কোটি টাকার সেতু এখন মরণফাঁদ: বিএনপি নেতার বাধায় আটকে আছে সংযোগ সড়ক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সুফল পাচ্ছে না হাজারো মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ব্যক্তিগত স্বার্থ ও বাধার মুখে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ৫ মাস ধরে সেতুটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে এবং শিক্ষার্থীরা মই দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ‘কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প’ সড়কে ৬০.০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুরের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালের জুন মাসে মূল সেতুর কাজ শেষ করে। কিন্তু যাদুরচর ইউনিয়নের গোলাবাড়ি এলাকার বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডল ও তার সহযোগীদের বাধার মুখে সংযোগ সড়কের মাটি ফেলার কাজ থমকে গেছে।

ঠিকাদার সামসুদ্দিন হায়দার অভিযোগ করেছেন, কাজ চলাকালীন তাকে দফায় দফায় হয়রানি করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন: কাজ চালিয়ে নিতে বিএনপি নেতা শাহাজাহান মণ্ডলকে ৪ লাখ টাকা এবং অন্য একজনকে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ঘর তুলে দিতে হয়েছে। নির্মাণ চলাকালীন প্রায় ১০-১৫ লাখ টাকার মালপত্র চুরি হয়েছে। বর্তমানে গাইডওয়ালের খুঁটি উপড়ে ফেলে মাটি কাটতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মণ্ডল টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেতুর জায়গায় আমাদের রেকর্ড করা প্রায় এক বিঘা জমি চলে গেছে। জমির দাম না দিলে মাটি ফেলতে দেব না।” ঠিকাদারের থেকে টাকা নেওয়ার প্রশ্নে তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “আমি ৩০ লাখ টাকা নিয়েছি, তাতে কার কী?”

সরেজমিনে দেখা যায়, সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মই বা কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের ওপর উঠছে।

প্রতিদিন সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার ভয় থাকে। অনেক সময় বই-খাতা নিচে পড়ে যায়।

অটোভ্যান চালক নুরুজ্জামান ও বাদশা মিয়া বলেন, রাস্তা না থাকায় যাত্রী নিয়ে তারা পার হতে পারছেন না, ফলে তাদের আয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

কৃষকরা জানান, সেতুর সুফল না পাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে তাদের দ্বিগুণ খরচ ও শ্রম ব্যয় হচ্ছে।

উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর জানান, শাহাজাহান মণ্ডলের দাবি অনুযায়ী তার একটি খাল ভরাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তিনি বাধা দেওয়া বন্ধ করছেন না। অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুরুল হক জানিয়েছেন, জনস্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email