তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি তিতুমীর কলেজ জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সরকারি বাঙলা কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বাঙলা কলেজে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে উঠাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। ছাত্রশক্তির নেতা ও তার বন্ধুরা বাঙলা কলেজ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে উঠতে চাইলে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বাধা প্রদান করে। এ সময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে পরবর্তীতে বাংলা কলেজে পৌঁছানোর পর ছাত্রশক্তির নেতা মনজুরুল ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এতে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হলেন, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আরিয়ান আল আজিম, ছাত্রদল কর্মী শেখ আদনান, আরিফ, রকি ও নাজিম। জানা যায়, তারা শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লা গ্রুপের সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তি তিতুমীর কলেজ শাখার মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ মনজুরুল বলেন, সকালে পরীক্ষা দিতে কলেজ বাসে করে বাঙলা কলেজে যাওয়ার সময় তিতুমীর কলেজের ২০২০–২১ সেশনের শিক্ষার্থী শেখ আদনান ও আরিয়ান আল আজিম এবং তাদের সঙ্গীরা আমাদের বাসে উঠা বাধা দেয়। বাসে পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও তারা গেট আটকে রাখে। এসময় আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরীক্ষায় দেরি হওয়ার আশঙ্কায় আমি বিকল্প উপায়ে কেন্দ্রে পৌঁছাই।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ঘটনা মিমাংসা করার উদ্দেশ্যে আমি নিজ উদ্যোগে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। এমন সময় বাঙলা কলেজের ৭ নম্বর ভবনের ১০ তলায় অবস্থানকালে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আরিয়ান আল আজিম ও শেখ আদনান সেখানে উপস্থিত হন। আমি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে এবং কলেজ বাসে সবার সমান অধিকার নিয়ে কথা বললে অভিযুক্তরা পুনরায় তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে তারা দলবল নিয়ে আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা বন্ধুদের ওপর হামলা করে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় ছাত্রশক্তি, তিতুমীর কলেজ শাখার আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে পুরো ঘটনা জানানো হয়েছে। সংগঠনগতভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার অপেক্ষায় আছি। আজকের এই পরিস্থিতি থেকে বুঝতে পেরেছি, ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কতটা অনিরাপদ।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
