চট্টগ্রাম নগরে সুবিধা বঞ্চিত যুবকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজে রায়হানুল ইসলাম নামে নগর ছাত্রদলের এক নেতা এবং আহমদ কবীর নামে বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী ও তাদের অনুসারীরা বাধা প্রদান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবদুল বাতেন। রায়হানুল চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আহমেদ কবীর দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী বলে পরিচয় দেন।
অধ্যক্ষ বাতেনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ করতে গেলেই দলবল নিয়ে এসে বাধা দিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা রায়হানুল ও তার অনুসারীরা। প্রতিবাদ করলে মারধর করছেন। নেপথ্যে থেকে তাদের ইন্ধন দিচ্ছেন কথিত বিএনপি নেতা আহমদ কবীর।
তিনি বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের নাম ভাঙিয়ে চান্দগাঁও এলাকায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন।’ এর আগে গেল বছরের জুলাই মাসে অধ্যক্ষ আবদুল বাতেনের কাছে চাঁদা দাবির সময় ছাত্রদল নেতা রায়হনুলসহ তিনজন পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে ছাত্রদল নেতা রায়হানুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী আহমদ কবীরের মোবাইলে একাধিবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যাতে জোরপূর্বক প্রবেশ, সংস্কার কাজে বাধা কিংবা হাঙ্গামা করতে না পারে সেজন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশনা দিলেও চান্দগাঁও থানা পুলিশ তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ অধ্যক্ষ বাতেনের।
এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘আমি থানায় নতুন এসেছি। বিষয়টি জানি না। বাদীকে থানায় আসতে বলুন।’
এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সিনিয়র সিভিল জজ ৫ম আদালত, চট্টগ্রামে দায়ের করা অপর মামলায় (৩০৩/২৫) দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারামতে সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক প্রবেশ না করার জন্য বিবাদী কথিত বিএনপি নেতা আহমদ কবীর, ছাত্রদল নেতা রায়হানুল ইসলাম, নুরু মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন ওয়াহেদ ইলেকট্রিশিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষে তৌহিদুল আলম।
শুনানি শেষে বিচারক ফারহান সামিন বাদীর আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া পৃথক আবেদনে দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৯৪ ধারামতে আদালতের অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ বলবৎ করার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশও দেন আদালত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে পুলিশের তরফ থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অধ্যক্ষ বাতেনের।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সুবিধা বঞ্চিত যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কোর্স চালানোর জন্য অবকাঠামো তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বিএনপি নেতা পরিচয়ধারী আহমদ কবীর ও ছাত্রদল নেতা রায়হানুল ইসলাম ও তাদের অনুসারীরা। এর আগে গত বছর ৯ জুলাই চাঁদা না পেয়ে মব সৃষ্টি করে উক্ত প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দিয়ে পুলিশের সামনেই অধ্যক্ষ বাতেনকে মারধর, চাঁদা দাবির অভিযোগ আছে রায়হানুল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ সূত্র জানায়, উক্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির সময় রায়হানুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করলেও পরবর্তীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না মর্মে মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় র্যাব-৭ অফিসের পাশের বিল্ডিংয়ে ওয়াহেদ ইলেকট্রিশিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামে প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। উক্ত প্রতিষ্ঠানে ছিন্নমূল যুবকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
