খুলনার শিরোমণিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি সার গোডাউনের নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিক ইউনিয়নের কমিশনের টাকা কবজায় নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আব্বাস ও বিএনপি নেতা শাহেদ জুম্মানের এমন আগ্রাসী ভূমিকায় ঘাট এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রোববার ও সোমবার দফায় দফায় দলবল নিয়ে ঘাট এলাকায় হানা দিয়ে জোরপূর্বক হিসাব বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেন নেতারা। বিএডিসির যে গোডাউনটি কখনোই ইজারা দেওয়া হয় না, সেখানে নিজেদের ‘প্রতিনিধি’ সাজিয়ে ভুয়া চুক্তিপত্রের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ছক আঁকেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, রোববার সকালে বিএনপি নেতা আবু সাঈদ আব্বাস লোকজন নিয়ে শিরোমণি কালেকশন রাইট শুল্ক আদায় ও লেবার হ্যান্ডলিং ঘাটে যান। এ সময় তিনি দুই নম্বর বিএডিসি গোডাউনের সব হিসাব থানার আরেক বিএনপি নেতা জুম্মানকে বুঝিয়ে দিতে বলেন। জুম্মান কোনো টাকা-পয়সা না পাওয়ায় সোমবার সকালে স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতাদের নিয়ে বিএডিসি গোডাউনের সব হিসাব চাইতে যান।
জুম্মান বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার এসএম ইসলামিয়া এন্টারপ্রাইজের স্টাফ ইমরান মোল্লাকে একটি চুক্তিপত্র দেন। চুক্তিপত্র অনুযায়ী, এন্টারপ্রাইজের দুই নম্বর বিএডিসি গোডাউনের প্রতিনিধি হিসাবে আবু সাঈদের নাম উল্লেখ আছে। বিষয়টি ইমরান বিসিআইসির দুটি গোডাউনের ইজারাদার অপর বিএনপি নেতাকে জানান।
যুগান্তরের অনুসন্ধানে উঠে আসে ঘটনার বাস্তব চিত্র। মূলত বিএডিসির ওই গোডাউনটি কখনোই ইজারা দেওয়া হয় না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ও বিসিআইসির দুটি গোডাউন ইজারা দেওয়া হতো। যারা ইজারা পেতেন, তারাই বিএডিসি গোডাউনটি দেখভাল করতেন। ইজারাদার নামমাত্র মূল্যে স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নকে নিয়ন্ত্রণ করত। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ ঘাট ইজারাদার এমএস ইসলামিয়া এন্টারপ্রাইজ ও বিসিআইসির দুটি গোডাউনের ইজারাদার মেসার্স মিজান ট্রেডিং অ্যান্ড কোং। সম্প্রতি মিজান ট্রেডিং অ্যান্ড কোং বিএডিসির ২ নম্বর গোডাউনটি ইজারা নেওয়ার জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করতে যাওয়ার পর সংবাদ না প্রকাশ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি রাতারাতি বিষয়টি সমাধান করা হয়। ইজারা না দেওয়া বিএডিসি গোডাউনটির শ্রমিকদের পুরো টাকা বর্তমানে ইউনিয়ন নেতাদের ও তত্ত্বাবধানে আছে। স্টাফ ইমরান মোল্লা যুগান্তরকে বলেন, আবু সাঈদ আব্বাস ও জুম্মান স্থানীয় নেতাদের নিয়ে এসে হট্টগোলের চেষ্টা করেন। বিএনপি নেতা আবু সাঈদ আব্বাস যুগান্তরকে জানান, ইসলামিয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে আমার কোনো চুক্তি হয়নি। তবে জুম্মানের মাধ্যমে তারা আমার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিল। যেহেতু বিআইডব্লিউটিএর ঘাট তারা চালায়, তাই আমি বলেছি সব হিসাব জুম্মানকে দিতে। পরে আমি বুঝেছি কাজটি সঠিক হয়নি। শ্রমিক নেতাদের বলে দিয়েছি এই গোডাউনের কোনো টাকা কোনো নেতাকে দেওয়া যাবে না।
থানা বিএনপির সদস্য শাহেদ জুম্মান বলেন, যেহেতু আমি ইসলামিয়ার আন্ডারে চাকরি করি তাই তাদের কোনো ক্ষতি না হয় তাই গিয়েছিলাম। শ্রমিক ইউনিয়নের ক্যাশিয়ারকে বলেছি টাকা-পয়সা কাউকে না দিতে। শিরোমণির সার গুদম ঘাট ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শামীম জানান, থানা বিএনপির সভাপতি মিজান ও সাধারণ সম্পাদক আব্বাস বিএডিসি গোডাউনের শ্রমিকদের টাকা সংগঠনের কাজে ব্যয় করতে বলেছেন। এর আগে বিসিআইসি গোডাউনের লেবারের টাকা যারা নিত তারাও বিএডিসির টাকা নিত। বিএডিসির সহকারী ভান্ডার কর্মকর্তা সঞ্জয় চন্দ্র মাঝি বলেন, বিগত দিনে বিসিআইসির দুটি গোডাউন যারা ইজারা নিয়েছেন, তারাই এখানকার লেবার ফাংশনের কাজ করতেন। ইসলামিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সরদার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ থেকে ঘাট আমার প্রতিষ্ঠানের নামে ইজারা নেওয়া। আমার জানামতে সেখানে কোনো সমস্যা হয়নি।
