মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের শিবগঞ্জ মহেষপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন।

আহতরা হলেন- শিবগঞ্জ মহব্বতপুর কারিগরি উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মহেষপুর চৌধুরী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম আবু সাঈদ (৩২), ওই এলাকার ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জামিল সরকার সাদ্দাম (৩০) এবং খোরশেদ আলীর স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫)।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবু সাঈদ জামায়াত-সমর্থিত কর্মী। রবিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি, জামায়াতের শুরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহেষপুর গ্রামে তার আত্মীয় আবু সাঈদের বাড়িতে যান। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল বাড়ির আশপাশে রাখা হয়। উঠান বৈঠক শেষে দেলাওয়ার হোসেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে আবু সাঈদের সঙ্গে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জামিল সরকার ও আরেক কর্মী সেলিম রেজার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেলিম রেজার মা সেলিনা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তিনিও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনজনই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামিল সরকার অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি পাশে জামায়াতের মিটিং ছিল। আমার এরিয়ার ভিতরে দেখি ৫০-৬০টি মোটরসাকেল ঢুকে পড়ছে। পরে আমি তাদের বলতে যাই যে আপনারা এখানে মোটরসাইকেলগুলো রাইখেন না যেহেতু আমরা সপরিবারে বিএনপি করি। আপনারা ওই দিকে মিটিং করে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, পরে আবু সাঈদ এসে বলছে যে, এটা কি তোমার জমি যে বাধা দিচ্ছো? পরে নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করল আমাকে। আবু সাঈদ ১৭ বছর ছিল আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এখন জামায়াত। পরে আমাকে তারা মারধর করে এবং তার হাতে থাকা খুর দিয়ে আঘাত করে। এতে আমি ও আমার ভাই সেলিম ও তার মা আহত হয়।

অপরদিকে শিক্ষক আবু সাঈদ অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়িতে দেলাওয়ার হোসেন আসেন। সেখানে তিনি একটু আলোচনা করে চলে যান। বাইরে কয়েকটি মোটরসাইকেল রাখা হয়েছিল। এতে স্বেচ্ছাসেবক দলের জামিন সরকার সাদ্দাম বাজেভাবে গালিগালাজ শুরু করেন। আমি বের হয়ে তাকে বলতে গেলে সে আমাকে বলে, এটা বিএনপির এলাকা এখানে কোনো জামায়াত কথা বলতে পারবে না। ভালোই ভালো যেন চলে যায়, না হলে পরিস্থিতি ভালো হবে না বলে আমার দিকে তেড়ে আসে সাদ্দাম ও সেলিম।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে তারা  আমাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে তার মা সেলিনা বেগমও আমার গায়ে হাত তোলে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email