কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর তিনটি নির্বাচনী কার্যালয়, বিএনপির একটি অফিস এবং একটি মাদ্রাসার বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপির দুই কর্মীর বাড়ি। গত রোববার রাতে উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে গতকাল সোমবার দুপুরে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদকসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় জামায়াত জানিয়েছে, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে তাদের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের তিনটি নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় বিএনপির কর্মীরা জড়িত বলে দাবি উপজেলা জামায়াতের। তবে বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নিজেরা নিজেদের কার্যালয় পুড়িয়ে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে জামায়াত। তারা বিএনপি কর্মীদের বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ধনিজকরা গ্রামে জামায়াত সমর্থক এক যুবককে মারধর করে বিএনপির লোকজন। এরপর রাতে ওই গ্রামে বিএনপি সমর্থক বাচ্চু মিয়া ও মাদু মিয়ার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেন জামায়াত সমর্থকরা। এর জেরে গতকাল দুপুরে ধনিজকরা বাজারে সংঘর্ষে জড়ায় উভয় পক্ষ। এতে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক গাজী ইসমাইল, ছাত্রদল নেতা শাহাদাত হোসেন, জামায়াত সমর্থক তাসকিনসহ অন্তত আটজন আহত হন।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, রোববার গভীর রাতে ধনিজকরা, সমেষপুর ও গাছবাড়িয়ায় তাদের নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়া হয়। এতে একটি মুদি দোকানও পুড়ে যায়। এ ছাড়া বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা এলাকায় অবস্থিত আয়েশা ছিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বাসে আগুন দেওয়া হয়।
ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা জামায়াত সমর্থিত সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রাজনৈতিক কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আক্রমণ দুঃখজনক। রাতে দুর্বৃত্তরা মাদ্রাসার বাসে
আগুন দিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি। অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে মাদ্রাসাটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাছবাড়িয়া গ্রামের মুদি দোকানি নাছির উদ্দিন বলেন, মোটরসাইকেলে আসা মুখোশপরা তিনজন রাত ২টার দিকে জামায়াতের অফিসে আগুন দেয়। এতে জামায়াত অফিস ও পাশে থাকা আমার দোকান পুড়ে যায়। আগুনে আমার ১৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসাইন বলেন, তাদের তিনটি নির্বাচনী অফিস ও সমর্থকদের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি জড়িত। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সহিংস ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও তিনি জানান।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম রাজু বলেন, রোববার রাতে জামায়াতের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা ধনিজকরা গ্রামে বিএনপির সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে আমাদের দলের অফিসও ভাঙচুর করেন। জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপিকে ফাঁসানোর জন্য এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এসব ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. গুলজার আলম বলেন, অগ্নিসংযোগ ও
ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
