‘এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!’— গাড়িতে বসে থাকা এক নারীকে এভাবেই শাসানোর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে।
বলা হচ্ছে, ভিডিওতে যে নারীকে দেখা গেছে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের স্ত্রী ও নির্বাচনী এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তার। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত সজীব নামে এক যুবক তাকে নির্বাচনী কাজে বাধা দিচ্ছেন। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণার সময় মো. সজীব নামে ওই যুবক গণসংযোগ বন্ধ করতে হুমকি দিয়ে এসব কথা বলেছেন।
সম্প্রতি ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের স্ত্রী ও নির্বাচনী এজেন্ট মোসা. নার্গিস আক্তার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদের অভিযোগ, তার কর্মীরা প্রচারণার জন্য বিলবোর্ড লাগাতে গেলে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সমর্থকরা তাতে বাধা দিয়ে হুমকি ধমকি দেন। গণসংযোগে ‘সন্ত্রাসী কায়দায়’ বাধা দিয়ে প্রচারপত্র বিলি করতে দেয়নি। এমনকি ভবিষ্যতেও গণসংযোগ করতে দিবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে নার্গিস উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার সকালে বন্দর খেয়াঘাট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিলবোর্ড স্থাপন করতে গেলে প্রতিন্দ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের লোকজন বাধা দেয় এবং মারমুখী আচরণ করে। এতে সেখানে বিলবোর্ড স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২২ নম্বর ওয়ার্ডের আমিন আবাসিক এলাকাতেও গণসংযোগকালে একই প্রার্থীর সমর্থকদের বাধার মুখে পড়েন নার্গিস।
তিনি বলেন, ‘আমি পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে গণসংযোগ করতে গেলে আমাকে প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালামের লোকজন সন্ত্রাসী কায়দায় বাধা দিয়ে কর্মসূচি পণ্ড করে দেয় এবং সেখানে আর কোনোদিন গণসংযোগ করতে দিবে বলেও হুমকি দেয়। এ সময় হুমায়ূন কবির নামে এক যুবক হুমকি দিয়ে বলেন, ‘এই এরিয়াতে ঢুকছেন কেন? এদিকে আর ঢুকবেন না। একেবারে খাইয়া লামু শালারা, যাহ!’
নার্গিস অভিযোগ করে বলেন, হুমায়ূন কবির বন্দর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সজীবও যুবদলের কর্মী। তারা দুজনই আবুল কালামের অনুসারী।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বিএনপি প্রার্থী আবুল কালামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তার ছেলে এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কাউসার আশা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মাকসুদ হোসেন পতিত ফ্যাসিস্টের সহযোগী। তার প্রতি স্থানীয় মানুষের অনেক ক্ষোভ রয়েছে, সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু এই ধরণের কার্যক্রমের সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর কোনো যোগাযোগ নেই। এটা যারা করেছেন; তা তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত জায়গা থেকে করেছেন।’
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানি সরকার বলেন, ‘আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। আমি বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অফিসিয়ালি জানিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মকসুদ জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ছিলেন। ২০২৪ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে মুসাপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে তিন দফায় নির্বাচিত হয়েছেন মকসুদ।
