নারী কর্মীদের ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না।
আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বগুড়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আমলে নেয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেন, ‘বগুড়া-২ আসন থেকে আমি যেন নির্বাচন করতে না পারি, শুরু থেকেই এমন কতগুলো ইস্যু তৈরি করা হয়েছিল।’
‘সংগত কারণে মাসখানেক পর গত পরশু এলাকায় এসেছি। আসার পর থেকেই দেখলাম, এলাকায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে—ক্ষমতায় তো যাচ্ছিই, আমার (মান্না) পক্ষে যারা কাজ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে “অ্যাকশন” নেওয়া হবে। এখানে ওখানে শক্তি প্রদর্শন করার চেষ্টা চলছে,’ যোগ করেন তিনি।
মান্না আরও অভিযোগ করেন, ‘নাগরিক ঐক্যের নারী সংগঠন আছে। সংগঠনের নারী সদস্যদের গতকাল সোমবার কেটলির প্রচারণা চালানোর সময় পথ আটকে বাধা দেওয়া হয়েছে। আজ থানায় মামলা দিতেও গেলেও পুলিশ নেয়নি।’
ব্যবসায়ীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে মোকাবিলা করার চেষ্টা করবো। আমি চাইছি, পরিস্থিতির পরিবর্তন হোক, যাতে সুষ্ঠ ভোট হয়। সেই ভোটে যে জেতে, জিতবে। মানুষ মনে করছে, সেই ভোটে অনেক কিছুই হয়তো পাল্টে যেতে পারে। মানুষ খুশিমতো যাতে ভোট দিতে যেতে পারে এবং তাদের ভোটের রায় যেন ঠিকমতো প্রকাশ হয়, এটাই গণতন্ত্র।’
গতকাল এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ৩ জনকে আহত এবং মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে বগুড়া প্রেসক্লাবে দুপুর ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের জামায়াতের আমির মোফাজ্জল হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বিএনপি সমর্থিত একদল দাঙ্গাবাজ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী অফিসে হামলা করে। হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মো. শাহ জালাল, সমর্থক মো. রশিদুল ইসলাম ও মো. আবু তাহের গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।’
‘অভিযোগ পাওয়ার পর পরই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন। কিন্তু এজাহার গ্রহণের পরও ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলম ও শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে কল ও খুদে বার্তার মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা সাড়া দেননি।
