নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লি পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের দাবি, তাঁদের প্রচারণা চলাকালে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা প্রথমে হামলা করেন। আর বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দাবি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন লিফলেট বিতরণের সময় ভোটারদের টাকা দিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় আহত ব্যক্তিরা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মনজুরুল হক, আবদুল মুতালিব, মাহমুদুল হাসান, শামসুল হুদা এবং বিএনপির প্রার্থীর সমর্থক আরজু মিয়া ও কমল মিয়া। তাঁদের মধ্যে মনজুরুল হককে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা, রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল জল্লি পূর্বপাড়া এলাকায় ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা লিফলেট বিতরণসহ প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন মোটরসাইকেলে করে একই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক শামসুল হুদা বলেন, ‘আমরা ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর প্রচারণা চালানোর সময় ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে আমাদের বাধা দিয়ে মারধর করে। হামলায় আহত মঞ্জুরুল হকের মাথায় তিনটি সেলাই লেগেছে।’
বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক কমল মিয়া বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করার সময় টাকা দিচ্ছিলেন। এ সময় একজন নারী আমাদের থামিয়ে বিষয়টি জানালে আমরা তাঁদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা বলেন, এটা পান খাওয়ার জন্য টাকা দিয়েছি। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের ওপর হামলা চালান। এতে আমিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছি।’
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ‘আমি গতকাল ময়মনসিংহে ছিলাম। তবে বিষয়টি আমি শুনেছি। আমার দলীয় কর্মী-সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের ওপর প্রথম হামলা করেনি; বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা লিফলেটের সঙ্গে টাকা বিতরণ করার সময় আমার লোকজন প্রতিবাদ করায় তারা হামলা চালায়। পরে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার প্রস্তুতি চলছে।’
আর স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর থেকেই বিএনপির সমর্থকেরা আমার সমর্থকদের মারধর করাসহ প্রচারে বাধা ও মাইক ভাঙচুর করে চলছে। এ নিয়ে আমি এ পর্যন্ত চারটি পৃথক স্থানে সংগঠিত হওয়া ঘটনায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো ফলাফল পাচ্ছি না।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানা-পুলিশকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
