সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেলো স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী

রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি লিজকৃত পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

৭ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) রাত ১ টার দিকে উপজেলা দেলুয়াবাড়ি ইউপির নারায়নপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারায়নপুর মৌজার খতিয়ান নং (আরএস)৩০৭, দাগ নং-৩৯৪ এ ৮৯ শতাংশ সরকারি খাস পুকুর। সাব লিজের মাধ্যমে চাষাবাদ করছিলেন থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিলহজ্ব মাহমুদ। গত ২০ জানুয়ারী, নারায়নপুর এলাকার,  মোঃ ভুট্টু (৩২), মোঃ বল্টু (৪২), মোঃ মনতাজ আলী (৩৫), মোঃ রনি (৩৫), মোঃ আলম (৩৪),  মোঃ সাজ্জাদ (৪৫),  মোঃ আলমগীর (৪০),  মোঃ আলাল (৩০), মোঃ মিলন (২৭), আরো অজ্ঞাত নামা ১০/১২ জন ব্যক্তি। আমার লীজ কৃত পুকুর দেখে আসার পথে নারায়ণপুর বাজারে আমাকে পথ রোধ করে বিবাদীগণ বলে যে, আমাদের এলাকায় মাছ চাষ করতে হলে আমাদেরকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নইলে জোরপূবর্ক পুকুরে মাছ ধরে বিক্রি করে চাঁদার টাকা আদায় করবো।

আমি বিবাদীদের টাকা দিতে অস্বীকার করায় অদ্য ৭ ফেব্রুয়ারী আমার লীজকৃত পুকুরে রাত্রী অনুমান ১২ ঘটিকার সময় উল্লেখিত বিবাদীগণ জেলে ভাড়া করে আমার পুকুরের মাছ ধরেন। আমাকে নারাণয়নপুর এলাকার অজ্ঞাত নামা ব্যক্তি, মোবাইল করে জানায় যে, আমার পুকুরে বিবাদীরা মাছ ধরছে । আমি তৎক্ষনাত মোটরসাইকেল যোগে আমার লীজ কৃত পুকুর পাড়ে যাওয়ার পূর্বেই দেখি উল্লেখিত বিবাদীগণ নসিমন গাড়ীতে মাছ বোঝাই করে নিয়ে যাচ্ছে। আমি গাড়ী টি আটকিয়ে জাতীয় জরুরী নম্বর  ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাই। পুলিশ  ঘটনাস্থলে পৌঁছার পূর্বেই বিবাদীগণ আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক মাছের গাড়িটি নিয়ে চলে যায়। যাহার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি আছে। বিবাদীগণ আমাকে হুমকি দিয়ে বলে যে, চাঁদা না দিলে পুকুরের সমস্ত মাছ বিষ প্রয়োগ করবো। আমার পুকুরে প্রায় ৪০-৫০ লক্ষ টাকার মাছ আছে। তারা আনুমানিক দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার মাছ ধরছে। বিবাদী আবারও যেকোন সময় উক্ত পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে বড় ধরনের ক্ষতি সাধনের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

ভুক্তভোগী দুর্গাপুর থানা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জিলহজ্ব মাহমুদ জানান, ওই এলাকার মুহিদুল ইসলাম নামের মৎস্য চাষি সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে নির্ধারিত কর পরিশোধ করে পুকুরটি ৩ বছরের লিজ গ্রহণ করেছে। তার নিকট থেকে আমাকে সাব লিজ দিলে মৎস্য চাষাবাদ করে আসছি। দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তারের প্রকাশ্য মদদে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা আমার নিকট চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আজ পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি আসামীদের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দায়ের করেছি।

দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার জানান,  আওয়ামী লীগের অনুসারী মুহিদুল ইসলাম পুকুরটি চাষাবাদ করছিলেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পড়ে তিনি পুকুরের সকল মাছ ধরে নিয়েছেন। পুকুর টি পতিত পড়ে থাকায় এলাকার বাসিন্দা মাছ ছেড়ে চাষাবাদ করেছেন। আমি মসজিদ মাদ্রাসার নামে আবেদন করেছিলাম পুকুরটি আমাদের দেওয়া হয়নি। কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি যারা মাছ চাষ করেছিলেন তাঁরাই ধরেছে।

এবিষয়ে দুর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি খাস পুকুর থেকে মাছ ধরার ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ/এজাহার  দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email