“নাহিদ ও তার সহযোগী পলাতক স্বপন বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র বিক্রি করেন,” বলেন সেনা কর্মকর্তা নাজিম আহমেদ।
ঢাকার সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করার তথ্য দিয়েছে সেনাবাহিনী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম গালিব ইমতিয়াজ নাহিদও রয়েছেন।
তবে সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে নয়, তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে।
গ্রেপ্তার বাকি দুজন হলেন, নাহিদের সহযোগী রবিউল ইসলাম বাবু ওরফে মেশিন বাবু এবং মাসুদ রানা আলভী ওরফে শুটার মাসুদ।
এ বিষয়ে জানাতে সোমবার বিকালে ঢাকার বসিলা ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ২৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ।
তিনি বলেন, “গেল ১৫ দিনে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন স্থান থেকে চারটি ও পোস্তগোলার জুরাইন কবরস্থান এলাকা থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।”
সে সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ‘যাচাই-বাছাই’ করে সোমবার ভোরে সাভারের চাপাইন এলাকা থেকে ‘তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী’ নাহিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, তাদের কাছে থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৬ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজ, আটটি রামদা ও পাঁচটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানকালে স্বপন শেখ নামে তাদের ‘আরেক সহযোগী’ পালিয়ে যায় বলেও জানান এই সেনা কর্মকর্তা।
গ্রেপ্তারদের বিষয়ে লেফটেনেন্ট কর্নেল নাজিম বলেছেন, তারা জানতে পেরেছেন নাহিদ ও তার সহযোগী পলাতক স্বপন বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র বিক্রি করেন।
আসন্ন নির্বাচনকে ‘সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ’ রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা এখনও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা পাইনি। আর আমরা আসলে রাজনৈতিক দলের লোক হিসেবে কাউকে গ্রেপ্তার করিনি, গ্রেপ্তার করেছি সন্ত্রাসী হিসেবে।”
‘সন্ত্রাসীরা কখনো কোন দলের হতে পারে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “গত ১৫ দিনে বিভিন্ন সময় যেসব অস্ত্র উদ্ধার করেছি, সেই আসামিরা এই আসামিদের নাম বলে। এখান থেকে তারা অস্ত্র কিনেছে বা অস্ত্র পেয়েছে।”
নির্বাচন ঘিরে আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি। গত তিন দিনে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এই তিনটা অস্ত্রসহ প্রায় ২১ থেকে ২২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে যেন নির্বাচন ঘিরে এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে কেউ বিশৃঙ্খলা না করতে পারে।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, কিছু তথ্য পেয়েছি। পরবর্তী অভিযানের জন্য আমরা সেই তথ্যটি গোপন রাখছি।”
