চট্টগ্রাম ওয়াসা ভবনে তালা ভেঙে কক্ষ দখলে নিলেন শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা

ব্যানারের নিচে লেখা ‘ইউনিয়ন কার্যালয়- চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দল’

চট্টগ্রাম ওয়াসা ভবনের তালা ভেঙে একটি কক্ষ দখলের ঘটনা ঘটেছে। ওয়াসার শ্রমিকদের একটি অংশ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া কক্ষটি দখলের পর সেখানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়। ব্যানারের একপাশে পাশাপাশি রয়েছে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার ছবি, আরেক পাশে তারেক রহমানের ছবি। আর নিচে লেখা রয়েছে ‘ইউনিয়ন কার্যালয়- চট্টগ্রাম জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দল’।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় বিএনপি। এর চারদিনের মাথায় রোববার দুপুরে বিএনপি সমর্থিত শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা কক্ষটির দখল নিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াসার কয়েকজন সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারী জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দলের সভাপতি মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৪৫ শ্রমিক-কর্মচারী ওয়াসার নতুন ভবনের একটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। তবে চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী দলের সভাপতি মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসার নতুন ভবনে মৌখিকভাবে কক্ষটি তাদের ব্যবহার করতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা কক্ষটি খুলতে প্রশাসনের কাছে চাবি চান। চাবি না পাওয়ায় কক্ষের বাইরে তারেক রহমানের ব্যানার ও ছবি সম্বলিত ব্যানার টাঙিয়েছেন।

কক্ষ দখলের বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর ওয়াসা কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার শ্রমিক ইউনিয়ন দুইভাগে বিভক্ত। একটি সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ১৬৮৭ এবং অন্যটির ২৩০৭। ২৩০৭ নম্বরের চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়ন বর্তমানে নাম পরিবর্তন করে ‘চট্টগ্রাম ওয়াসা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী দল’ হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়নের (রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৬৮৭) সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রতন কান্তি দাশ বলেন,  রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩০৭ এর চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমিক ইউনিয়ন একটি অবৈধ সংগঠন। ২০০৪ ও ২০০৫ সালে ওই সংগঠনের কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্ট দুইবার রুল জারি করেন। মামলাটি এখনও চলছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email