শ্রমিক দল নেতার নেতৃত্বে এক লাফে বাড়ানো হল ৬০ টাকা চাঁদা

১০ টাকার চাঁদা একলাফে বেড়ে ৭০ টাকা করায় চাঁদার চাপে দিশেহারা হয়ে মহাসড়কেই নেমেছে সিএনজি চালকরা। রোববার সকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইভা ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে কয়েক’শ সিএনজি চালক হঠাৎ করে অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এসময় উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

বিক্ষোভকারী চালকদের দাবি, ২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কয়েক মাস ময়মনসিংহ-ত্রিশাল সিএনজি চালানোর জন্য চাঁদা দিতে হতো না। । কিন্তু কয়েক মাস পর ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় শুরু হয়। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর শ্রমিকদল নেতা দুকোলের নেতৃত্বে রফিক ও মোদন চাঁদার পরিমান ৭০ টাকা নির্ধারণ করে। পাশাপাশি মাসিক ১ হাজার টাকা চাঁদা বাধ্যতামূলক করা হয়। এঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে চালকরা।

সিএনজি চালক মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ত্রিশাল থেকে ময়মনসিংহ রুটে সিএনজি চালাই। আগে ১০ টাকা, পরে ২০, তারপর ৪০ টাকা দিয়েছি। এখন ৭০ টাকা আর মাসে ১ হাজার টাকা দিতে হবে বলা হচ্ছে। না দিলে গাড়ি স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, চলাচল বন্ধ করে দেয়।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “চাঁদা না দিলে মারধরও করা হচ্ছে। আমরা কি এই জন্য ভোট দিয়েছি? বলা হয়েছিল দেশে চাঁদাবাজি থাকবে না। কিন্তু এমপিদের শপথের পর থেকেই চাঁদা বেড়েই চলেছে।”

আরেক চালক মো. স্বপন মিয়া অভিযোগ করেন, “ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ গেটের সামনে স্থানীয় দুকূল নামের এক ব্যক্তি বিএনপি নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদা তোলে। আমরা দিন এনে দিন খাই-এই বাড়তি টাকা কোথা থেকে দেব?”

চালকদের অভিযোগ, ‘জিপি’ নামে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে স্ট্যান্ডে দাঁড়াতে দেওয়া হয় না, এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকারও হতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, অতিরিক্ত চাঁদার কারণে প্রতিদিনের আয়-রোজগার থেকে বড় অংশ কেটে যাচ্ছে। জ্বালানি খরচ, গাড়ির কিস্তি ও সংসার চালানোর পর এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা অবিলম্বে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বন্ধ, মাসিক ১ হাজার টাকার সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পূর্বের সব ধরনের চাঁদা প্রত্যাহারের দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, ত্রিশালের সিএনজি চালকরা গাড়ি নিয়ে ময়মনসিংহ শহরে ঢুকলে শ্রমিক নেতা দূকোল, রফিক ও মোদন হঠাত করে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে চায়। এতে ত্রিশালের সিএনজি চালকরা ফেরত এসে ত্রিশালে সড়ক অবরোধ করে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email