ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে উথুলী মোড়ে সেলফি পরিবহনের বাস থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে সুব্রত বিশ্বাস নামে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উথুলী নামক এলাকায় ১৫০০ টাকাসহ তাকে গ্রেপ্তার করে শিবালয় থানা-পুলিশ।
আটককৃত সুব্রত উথুলী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়নের বেলতা গ্রামের মৃত নিতাই চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনায় সেলফি পরিবহনের লাইনম্যান মিজানুর রহমান বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে উথুলী-পাটুরিয়া সংযোগ মোড়ে সেলফি পরিবহনের লাইনম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। এ সময় যুবদল নেতা সুব্রত বিশ্বাসসহ অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজন তার কাছ থেকে বাস কাউন্টারের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয় ও ডিউটি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এর পর সুব্রত ও তার সঙ্গীরা সেলফি বাস প্রতি ত্রিশ টাকা করে চাঁদা তুলতে থাকেন। বিষয়টি মিজানুর কোম্পানি ম্যানেজারকে জানান। কোম্পানির পক্ষ থেকে বিষয়টি থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পরে আজ দুপুরের দিকে সুব্রত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। তবে অন্যরা পালিয়ে যায়।
সেলফি পরিবহন ম্যানেজার মো. সবুর খান বলেন, ‘সোমবার আমাদের লাইনম্যানকে তাড়িয়ে দিয়ে সুব্রতসহ কয়েকজন সেলফি পরিবহন থেকে চাঁদা তুললে শুরু করেন। এ ঘটনা জানার পর সুব্রতকে ফোন এ ধরনে কাজ না করার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি উল্টো কোম্পানির নিয়োগকৃত লাইনম্যান ও আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় দেড়শতাধিক সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল করে। তারা প্রতি বাস থেকে ৩০ টাকা করে চাঁদা তুলছিল। বাধ্য হয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।’
উথুলী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান সরকার টুটুল বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়টি পুলিশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সুব্রত কুমার বিশ্বাস আমাদের কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। দল কোনোভাবেই এ কাজ সমর্থন করে না। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় কোম্পানির লাইনম্যান মিজানুর রহমান মামলা করেছেন। ওই মামলায় সুব্রতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
