সিলেটের বালাগঞ্জে মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে শাহ ইসমাইল আলী (৩০) নামে এক যুবক খুন হয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বালাগঞ্জের বোয়ালজুর বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহত ইসমাইল আলী বালগঞ্জের বোয়ালজুর ইউনিয়নের কাজীপুর গ্রামের কাপ্তান মিয়ার ছেলে ছিলেন। এছাড়া তিনি সিলেট-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এম এ মালিকের রাজনৈতিক কর্মী ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৮ফেব্রুয়ারি) নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনের ঘটনার আগে একটি মুঠোফোন হারানোকে কেন্দ্র করে নিহত ইসমাইল আলীর বড় ভাই মামুন মিয়ার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গ্রামের হাসান আহমদের বিরোধ ছিল। হাসান আহমদও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। হাসানের বাবা সিরাজ জামান খান বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালজুর বাজারে ইসমাইল আলীর বড় ভাই মামুন মিয়ার দোকানে বসেছিলেন হাসান। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। মামুনের দোকানে হাসান তার মুঠোফোন চার্জে রেখে অন্যত্র গিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে তিনি তার চার্জে রাখা মুঠোফোনটি পাননি। এ নিয়ে মামুনের সঙ্গে হাসানের বাগ্বিতণ্ডা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, পরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি মীমাংসা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামুন মিয়ার ভাই ইসমাইলকে বোয়ালজুর বাজারে পেয়ে হাসানসহ কয়েকজন মিলে মারধর করে ও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতেই তার মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে, নিহতের দুলাভাই প্রবাসী এস এম সুহেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ইসমাইলকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভুঁইয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করা হলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
