মোংলায় ‘অপকর্মে বাধা’ দেওয়ায় দুই যুবদলকর্মীকে মেরে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বাঁশতলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হলেন জিয়ার শেখ (৪০)।
তিনি উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
আহতরা হলেন একই ওয়ার্ডের যুবদলকর্মী মামুন ফকির (৩৮) ও তার ভাই আলী ফকির (২৭)।
আহত ও তার পরিবার জানান, জিয়ার শেখ বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় চিংড়ি ঘের দখল, সংখ্যালঘুদের মারধরসহ চাঁদাবাজি করে আসছেন। আর তার এসব অপকর্মে বিভিন্ন সময়ে বাধা দিয়ে আসছেন মামুন ফকির।
এতে ক্ষিপ্ত হতে থাকেন জিয়ার শেখ। পূর্বের সেই রেশ ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় বাঁশতলা বাজারে মামুনের উপর অতর্কিত হামলা চালায় জিয়ার শেখ। তিনি লাঠি (ক্রিকেটের স্ট্যাম্প) দিয়ে পিটিয়ে মামুনের বাম হাত ভেঙে দেয়। এ ছাড়া লাঠির আঘাতে মামুনের মাথা ও কান ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
এসময় খবর পেয়ে মামুনের ভাই আলী ফকির ছাড়াতে গেলে তাকেও মেরে রক্তাক্ত জখম করে জিয়ার শেখ। পরে স্থানীয়রা মামুন ও আলীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মামুন ফকির বলেন, জিয়ার শেখ দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে আমি তাতে বাধা দিই। এতে আমার উপর ক্ষিপ্ত হন জিয়ার।
সেই জেরে আজ অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার ভাইকে মেরে আহত করেছেন তিনি। এ ঘটনায় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মামুন আরো বলেন, আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি স্থানীয় সিনিয়র বিএনপি নেতাদের কাছে। সেই সঙ্গে আইনি সুবিচার কামনা করছি।
এ বিষয়ে জিয়ার শেখ বলেন, মারামারি হয়নি, ঠেলাঠেলি হয়েছে, তাতে আমিও আহত হয়েছি। আর মারামারি আমার সঙ্গে না, অন্যদের সঙ্গে, আমি ঠেকাতে গিয়ে বরং আহত হয়েছি।
মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
