জামালপুরের ইসলামপুরে একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান স্থানীয় বিএনপির কিছু সমর্থকের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা, এই অভিযোগে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। মারধরের পর ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমার কারোর প্রতি কোনো ধরনের অভিযোগ নেই। কপালে যা লেখা ছিল, হয়তো সেটাই হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে এই হামলার শিকার হন চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক। তিনি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া আব্দুল মালেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনের বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নিয়মিত তিনি অংশ নিতেন বলে জানা গেছে। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ইউনিয়ন পূর্ব বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম। হামলার ঘটনা ও আহতের খবর শুনে আব্দুল মালেককে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন ওই আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বিএনপির প্রার্থী সুলতান মাহমুদ বাবু।
দলীয় নেতাকর্মী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। যথারীতি বৈঠকে উপস্থিত হন ইউপি চেয়ারম্যানরা। সেখানে আওয়ামী লীগের পদধারী ইউপি চেয়ারম্যানদের বিষয়ে বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী বিরূপ মন্তব্য করতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আব্দুল মালেকসহ সেসব চেয়ারম্যান চলে যান। পরে দুপুর ১২টার দিকে ঘোনাপাড়া এলাকায় বেলগাছা ইউপি কার্যালয়ে বসে ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক। সেখানে এসে বিএনপির একদল সমর্থক তাঁর ওপর হামলা চালান। মারধর করে পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেন। এক পর্যায়ে তাঁকে কার্যালয় থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে অটোরিকশায় তুলে পুলিশে সোপর্দের উদ্দেশ্যে ইসলামপুর থানার দিকে নিয়ে যান হামলাকারীরা।
আরও জানা যায়, খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে ইসলামপুর থানা-পুলিশ ইউপি কার্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বুলবুলি নামক স্থান থেকে হামলাকারীদের হাত থেকে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেন। এই খবর শুনে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে যান এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু। পরে রাত ১০টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যানকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, এ বিষয়ে কারও প্রতি কোনো ধরনের অভিযোগ নেই তাঁর। কপালে যা লেখা ছিল, হয়তো সেটাই হয়েছে।
বেলগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা নেই। তিনি কারও কোনো ক্ষতি করেননি। যারা তাঁকে মারধর করেছে, তারা মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা বিএনপি যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। ইসলামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নবাব আলী বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক স্থানীয় জনরোষের শিকার হয়েছেন।’
