বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত হৃদয় গাজী ও বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হৃদয় গাজীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন  ফারহানা ইয়াসমিন।

লিখিত অভিযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ এর শ্রেণিকক্ষ-২ এর সামনে সহকারী অধ্যাপক ফারহানা ইয়াসমিনকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেন। এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে হৃদয় গাজী ওই শিক্ষিকাকে দেখে দেওয়ার হুমকি দেন। হৃদয় ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের একাডেমিক কমিটি একটি জরুরি সভা করে। সভায় বিভাগের শিক্ষকরা বর্ণিত ঘটনা অবগত হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান। পরে হৃদয় গাজীর (পরিচিতি নম্বর: ২১০১০২৩১) বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি সুপারিশ করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে হৃদয় গাজীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। এখন নতুন করে শিক্ষিকাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ অস্বীকার করে হৃদয় গাজী বলেন, ‘ম্যামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।  ম্যাম ক্লাসে ঢোকার পূর্বে আমি তাকে বলি, আপনি কেনো জুনিয়র আবিদকে প্রলোভন দেখিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছেন। সে (আবিদ) আমাকে গতরাতে বলছিল যে ম্যামকে প্রক্টর বানাতে আপনি সহযোগিতা করেন, আপনার যা লাগে আমি সব ম্যানেজ করে দেব। তখন ম্যাম উচ্চস্বরে বলেন আমি ক্লাস শেষে তোমার সাথে কথা বলব। পরবর্তীতে ম্যাম ক্লাসে গিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করেন। আমি তাকে হেনস্তা করিনি। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। সেটি যাচাই করলে এর সত্যতা পাওয়া যাবে।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হাসান তালুকদারের নাম্বারে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) নজরুল ইসলামকে কলা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email