জয়পুরহাটের কালাইয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার সহকারী যাওয়ার পথে সড়কে পথরোধের পর মারপিট করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. হারুনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় স্থানীয়রা আহত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। রাতেই চিকিৎসকরা তাদের শাররীক অবস্থার বেগতিক বুঝে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আহত ব্যবসীর বাবা নুর আলম বাদী হয়ে বিএনপি নেতা হারুনসহ ৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার পর পুলিশ রাতেই মামলার প্রধান আসামি হারুনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন উপজেলার বিয়ালা গ্রামের নুর আলমের ছেলে। তার সহকারী আব্দুল আলীম একই গ্রামের বাসিন্দা। মামলার আসামিরা হলেন, মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিয়ালা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে হারুন ও তার ভাই মামুনুর রশিদ, একই গ্রামের রেজাউল ইসলাম, জনাব আলী, রেজাউল করিম ও তোফায়েল আহম্মেদ। এরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নাজিমুদ্দিন একজন আড়ৎ ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার দিনভর তার সহকারী আব্দুল আলিমকে মোটরসাইকেলের পিছনে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে টাকা কালেকশন করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার মাত্রাই-বিয়ালা সড়ক হয়ে বকুল মোড় এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পথরোধ করে মোটরসাইকেল আটকিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন ও আব্দুল আলিমকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন বলেন, ওইদিনের ঘটনায় হারুন ও তার ভাই মামুনুর রশিদসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক তাদেরকে মারপিট করে সাড়ে আট লাখ টাকা নিয়ে গেছে। অনেকেই তাদেরকে রাস্তায় যেতে দেখেছে। তারা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
মামলার বাদী নুর আলম বলেন, টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারপিট করেছে তার বিচার চাই। আমি বিচারের আসায় মামলা করেছি।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনায় মামলার পর পরই হারুন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
