চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীর হামলা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিয়ামতি ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দের চাল কম আনার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুমায়ুন কবির ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত যুবকরা চেয়ারম্যানকে ঘিরে ধরে কিল-ঘুসি মারছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিষয়টি পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

দলের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য নুরুল ইসলাম আলামীন বলেন, চাল কম আনার অভিযোগ উঠলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তাহলে আইন হাতে তুলে কেন নেওয়া হলো? আমরা মনে করি হামলার ঘটনা ইউনিয়ন বিএনপি নেতারা পরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার সোহেল রানা ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি চাল কম উত্তলোনের অভিযোগ তুলে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় নিয়ামতি ইউনিয়নের জন্য ২৪ টন চাল আসার কথা ছিল। তবে চেয়ারম্যান ১ টন চাল কম নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ উঠলে ট্যাগ অফিসার এনামুলের সামনে আবারও চাল মাপা হয়। এ সময় ১ টন কম পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সালাম শিকাদার, কৃষক দল নেতা নয়ন, রাকিব, জুয়েল হাওলাদার, সোহেল হাওলদার ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদারের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা চালায়।

ট্যাগ অফিসার এনামুল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, চাল কম থাকার বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার ঘটনা অস্বীকার করে যুবদল নেতা সালাম শিকাদার বলেন, আমি মারামারির প্রথমদিকে সেখানে ছিলাম না। তবে চাল কম আনার বিষয়টি আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল শিকদার অবগত ছিলেন। তিনি চাল কম আনার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমাদের ওপর হামলা করেন এবং চেয়ারম্যানের মামা ঘুসি মারেন। পরে স্থানীয়রা উত্তেজিত হলে মারামারির ঘটনা ঘটে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email