মারধর, অর্থ ছিনতাই, জোরপূর্বক বিয়ে এবং নববিবাহিতা স্ত্রীকে জিম্মি করে চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আবির ইত্তেখার। তিনি উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কেএম হাসান ও সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত আবির ইত্তেখারকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী যুবক লিটন মোল্লা জানান, তিনি প্রবাসে থাকা অবস্থায় কুষ্টিয়ার এক নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দেশে ফেরার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার আগে ছাত্রদল নেতা আবির ইত্তেখার তাকে বাসা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় এবং ক্ষেতলালের বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে হুমকি-ধমকি দেয়। পরে ওই নারী, কথিত সাংবাদিক শাহিন, মিলনসহ আরও কয়েকজন মিলে লিটনকে বিলের ঘাট এলাকায় নিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
লিটন মোল্লা আরও অভিযোগ করেন, “মারধরের পর আমাকে ডাবলু কাজির বাড়িতে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা কাবিনে জোরপূর্বক ওই নারীর সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় আমার পকেটে থাকা ৩০ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয় এবং আরও ১ লাখ টাকা না দিলে আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়।”
ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের পর পরই তার নববিবাহিতা স্ত্রীকে ছাত্রদল নেতা আবির ইত্তেখার, কথিত সাংবাদিক মিলন, শাহিন ও বাবু নামের কয়েকজন ব্যক্তি জিম্মি করে নিয়ে যায়। তারা লিটনের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও তারা স্ত্রীকে ফেরত দেয়নি। বাকি আরও ১ লাখ টাকা দিলে তবেই স্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়। টাকা দিতে না পারায় তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
লিটন মোল্লা জানান, আতঙ্কের কারণে তিনি এখনো থানায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। তবে তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম বলেন, “লিটন মোল্লা নামের ওই যুবকের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি আমাদের দলীয় ফোরামের নজরে আসে। অভিযোগের বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে আবির ইত্তেখারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আবির ইত্তেখারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
