শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে ছাত্রদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত মাদ্রাসার ছাত্র ইয়াসিন মৃধা ফারদিন(১৫) ঢাকার কাকরাইলের অরোরা স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৮দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেল ৪ টা ১০ মিনিটের সময় মারা গেছেন। ফারদিন আহমেদ ইয়াসিনের পিতা হানিফ মৃধা তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত ফারদিন আহমেদ ইয়াসিন ভেদরগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হানিফ মৃধার ছেলে। সে স্থানীয় গৈড্যা এম এস ফাজিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা ইয়াসমিন বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর ৯দিন পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে নিহত ইয়াসিন মৃধা ফারদিনের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
নিহতের পিতা হানিফ মৃধা, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৭ টায় ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ছাত্রদলের দু’টি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা, রড এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। সংঘর্ষে ভেদরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হাকিম, কনস্টেবল জাহিদ, ছাত্রদল নেতা পন্নী কাজি, এনাম, সোহান, লিখন বেপারী, মবিন ও ইয়াসিনসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়। নিহত ইয়াসিনের মা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমার ছেলেকে পৌরসভা যুবদলের সভাপতি এসকেন্দার ছৈয়াল, তার ছোট ভাই রাশেদ ছৈয়ালসহ ১০/১২ জন মিলে পিটিয়ে মারাক্তক আহত করে। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ৮দিন চিকিৎসার পর আমার ছেলে মারা যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়। নিহতের ফুফু জোস্না বেগম বলেন, আমার ভাতিজা কোন রাজনীতি করতো না। ওরে ধরে নিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই। পৌরসভা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য একলাছ উদ্দিন বেপারী বলেন, নিরপরাধ লোককে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, এর সুষ্ঠু বিচার হোক।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. পারভেজ আহম্মেদ সেলিম বলেন, আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই, তাই তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শরীয়তপুর পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আসামীরা এলাকায় না থাকায় তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
