নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রেললাইনের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তা নির্মাণ ও গাড়ি পার্কিং তৈরির কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত সোমবার দুপুরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধে অভিযানে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীর বাধার মুখে পড়ে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ।
জানা গেছে, রেলওয়ের অনুমতি ছাড়াই মোহনগঞ্জ স্টেশনের সীমানা কেটে উভয় পাশে চলাচলের রাস্তা ও অবৈধ পার্কিং তৈরি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে সোমবার ময়মনসিংহের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান, গৌরীপুর ও মোহনগঞ্জের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে রেলের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ পার্কিং ও রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওসি সিরাজুল ইসলাম, মোহনগঞ্জ থানা ও রেলওয়ে পুলিশের একটি দল। খবর পেয়ে দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন মোহনগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রেলওয়ের অভিযানে বাধা দেন বিএনপি নেতা সেলিম। উত্তেজিত হয়ে তিনি ঘোষণা দেন, ‘জনস্বার্থে এই রাস্তা ও পার্কিং করা হচ্ছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যদি মামলা করে, তবে আমি দুই বছর জেল খাটতেও রাজি আছি।’
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রেলওয়ে কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্টেশন মাস্টারের কার্যালয়ে আলোচনায় বসেন। সেখানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিবেশ শান্ত হয়। বিএনপি নেতারা জানান, তারা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা গিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও রেল প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং ততক্ষণ পর্যন্ত রেলওয়েকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা আমাদের সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলাম। রেলস্টেশনের সীমানা প্রাচীর কেটে রাস্তা করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান সমকালকে জানান, রেললাইনের উভয় পাশে ১৪৪ ধারা জারি করা আছে। তারা যে স্থানে রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা করছে, সেটি একটি ক্রসিং পয়েন্ট। এখানে রাস্তা নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কায় কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দু্ই দফায় ৫০-৬০ জন লোক গিয়ে তাদের হুমকি-ধমকি দেয়। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে চায়। পরে স্টেশন মাস্টারের অফিসে বসে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তা নির্মাণের আবেদন করতে বলা হয়। কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়ে দিলে তখন আর বাধা দেবেন না তারা।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কারনায়েন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের কারণে মোহনগঞ্জ শহরে যানজট লেগে থাকে। রেললাইন রেলের সম্পত্তি হলেও এটি জনগণের সম্পদ। জনস্বার্থে রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। ক্রসিং পয়েন্টের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ মরণশীল, কোনো না কোনো কারণে সবাই মারা যাবে। রাস্তা নির্মাণের অনুমোদন আছে কিনা, এ ব্যাপারে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। রেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল। স্টেশন চত্বরে বসে সমাধান করা হয়েছে। রেল কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলাম। তারা ভিডিও করছিল, তখন আমাদের নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছে।’
