সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকি এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাসজমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা জিএম হাবিবুল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদল। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে জোরালভাবে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম হাবিবুল্লাহকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত এই নেতার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। একই সঙ্গে তার সঙ্গে সব প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নওয়াবেঁকি এলাকার সরকারি খাস খতিয়ানের জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে দলীয় প্রভাব বিস্তার করেন হাবিবুল্লাহ। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান দাবি করেন, বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও তাকে এবং তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটুলিয়া মৌজার ৫১৫৮ দাগের জমি সরকারিভাবে বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন ভুক্তভোগীরা। সম্প্রতি ওই জমি দখল করে সেখানে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্তকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চ্যালেঞ্জ করে বক্তব্য দিতে শোনা যায়, যা এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত জিএম হাবিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত জমি পুনরুদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
