ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের একটি বক্তব্যে জেলাজুড়ে তোলপাড় তৈরি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গেছে, ‘তোমরা মারামারি করে একসময় মার খাইছো, আরেক সময় দিছো। এরপর ওদের মার দিবা তারপর আমার জন্য খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করবা।’ যদিও এই নেতা দাবি করেছেন, বক্তব্যটি এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে তৈরি।
সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপিতে তাঁর প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতাকর্মীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পাচুরিয়া ইউনিয়নের চরভাটপাড়া গ্রামে এক সভায় অংশ নেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। সেখানেই তিনি ওই বক্তব্যটি দেন।
জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা দুটি পক্ষে বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতৃত্বে আছেন খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। অপর পক্ষের নেতা বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। দীর্ঘদিন ধরে আসনের তিনটি উপজেলাতেই নেতাকর্মীরা এই দুই নেতার বলয়ে বিভক্ত। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু ও খন্দকার নাসিরুল ইসলাম।
দলীয় মনোনয়ন পেয়ে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লার কাছে হেরে যান। এতেও দ্বন্দ্ব কমেনি। শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর অনুসারী একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে রাজনীতি করছেন। ত্যাগী নেতাদের মাইনাস করে তিনি অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে বিএনপি চালানোর চেষ্টা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করায় নানা সময়ে কয়েকশ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করিয়েছেন।
এ বিষয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমাকে বিতর্কিত করতে তারা মিথ্যা ও অপপ্রচারে নেমেছে।’ তাঁর দাবি, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটা বানানো হয়েছে। পরে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে।
