চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২৫

আহত কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামে এই সংঘর্ষ হয়েছে।

আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহত সবার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমানে নলচর গ্রামে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নলচর গ্রামের বাসিন্দারা বৈঠক করে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবিকে চেয়ারম্যান পদে গ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেন। ওই বৈঠকে চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল বারেক প্রধানও রবিউল্লাহ রবিকে সমর্থন করেন বলে জানান স্থানীয়রা। পরে বারেক প্রধান নিজেও চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে গত সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর মঙ্গলবার ভোরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ২০-২৫ জন আহত হন।

রবিউল্লাহ রবির ভাই ফারুক সরকার অভিযোগ করেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল গাফফারের ইন্ধনে বারেক প্রধানের ছেলে মহসিন লোকজন নিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের লোকজনকে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেয়। মঙ্গলবার ভোরে বারেক প্রধানের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা করতে পারে এই তথ্য পেয়ে তারাও প্রস্তুত ছিলেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুল গাফফার। তার ভাষ্য, রবিউল্লাহ রবি আওয়ামী লীগের লোকজনকে মদদ দিচ্ছেন– এমন অভিযোগ পেয়ে সোমবার রাতে তিনি পুলিশ পাঠিয়েছিলেন যেন সেখানে আওয়ামী লীগের লোকজন না থাকে। তিনি বারেক গ্রুপের কোনো ইন্ধনদাতা নন। তিনি চান বিএনপির সবাই মিলেমিশে থাকুক। প্রার্থী অনেকেই হতে পারেন, দল যাকে সমর্থন করবে তিনিই চূড়ান্ত, তিনিও দলের বাইরে যাবেন না।

আব্দুল বারেক প্রধান বলেন, ‘রবির বোনকে আমি বিয়ে করেছি, আবার রবির মেয়েকে আমার ছেলে বিয়ে করেছে। তাকে বলেছিলাম, আমার শেষ বয়সে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাই। পরে তিনি নিজেও প্রার্থী হওয়ার কথা জানান। এরপর আমিও চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিই।’ তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে রবির লোকজন হামলা করতে এলে তারাও প্রস্তুতি নিয়ে প্রতিরোধ করেন। এতে তাদের পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছেন।

চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে নলচর গ্রামের মানুষ রবিউল্লাহ রবিকে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছিলেন। বারেক প্রধানও তাকে সমর্থন করেছিলেন। পরে বারেক প্রধান নিজে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সোমবার রাতে বারেক প্রধানের ছেলে মহসিনের নেতৃত্বে রবিউল্লাহ রবির লোকজনকে ধাওয়া করার ঘটনা ঘটে বলে শুনেছেন। এর জেরেই মঙ্গলবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

বারেক প্রধানের টাকার ডোনার আব্দুল গাফফার, তিনিও চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি জানান, দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা বিচারাধীন। বারেক প্রধান ও রবিউল্লাহ রবি বেয়াই এবং দুজনই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শক্তি বাড়ায়, মিল থাকলে দুই গ্রুপই এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নলচরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার রাতে বারেক প্রধানের পক্ষে পুলিশ গিয়ে রবিউল্লাহ রবির লোকজনকে ধাওয়া দিয়েছে এবং পুলিশের সামনেই বারেকের লোকজন রবির লোকদের আক্রমণ করেছে? এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, পুলিশের কারও পক্ষ নেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশ একটি মামলা তদন্ত করতে সেখানে গিয়েছিল। পুলিশের সামনে ধাওয়া বা মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email