ভৈরবে হাইব্রিড ডাকায় বিএনপির দুগ্রুপের সংঘর্ষ, ২০ দোকানপাট ভাঙচুর, আহত ৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একে অন্যকে ‘হাইব্রিড’ ডাকায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে অন্তত ২০টি দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরসহ তিন জন আহত হয়েছে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তিন দফায় ভৈরব শহরের চন্ডিবের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

আহতরা হলেন, ভৈরব পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবর মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার জসিম মিয়া (৪০), শহরের ভৈরবপুর এলাকার শফিকুল মিয়ার ছেলে রাতুল মিয়া (২৭)। এদের মধ্যে শফিকুলকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকি দুইজনকে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক অসুস্থ বিএনপির নেতাকে দেখতে যান বিএনপির কেন্দ্রয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম। এসময় চন্ডিবের স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিএনপির প্রিয় নেতা শরীফুল আলমের সাথে সাক্ষাতের জন্য যায়। রোগী দেখে শরীফুল আলম চলে গেলে ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী আক্তার মিয়া ও সাবেক সভাপতি আকবর মিয়ার ছেলে ওয়ার্ড যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামের লোকজনের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে একে অন্যকে ‘হাইব্রিড’ নেতা বলে সম্মোধন করলে সংঘর্ষে বেধে যায়।

খবর পেয়ে ভৈরব বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। নেতৃবৃন্দ চলে যাওয়ার পরক্ষণেই আবারও দুই গ্রুপ দা, বল্লম ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আক্তার মিয়া বলেন, বাগবিতন্ডা নিয়ে হঠাৎ শফিকুল ইসলামের লোকজনের সঙ্গে আমাদের লোকজনের মধ্য ঝামেলা সৃষ্টি হলে ঘটনাটি বিএনপির নেতৃবৃন্দ মীমাংসা করেন। কিন্তু পুনরায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ঘোষাই বলেন, দীর্ঘদিন যাবত চন্ডিবের হাসপাতাল পাড়া এলাকায় দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেখানে কর্মীর চেয়ে নেতা বেশি। রেশারেশর রাজনীতির কারণে আমিও তাদের সাথে মিশতে চাই না। অযথা আমাকে একটি পক্ষ বানিয়ে দিবে।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান বলেন, গ্রুপিং সব এলাকাতে কম বেশি থাকে। তাদের সাথে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারী ইন্দন দিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম এর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দিয়েছে।
ভৈরব মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুহাদ রুহানী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী রয়েছে। দুই পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email