পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ওলামা দলের এক নেতার মুদিদোকান ও বাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় এক নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন কলাপাড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদার (৫৫), কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান (৫২) এবং তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৪৬)।
রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্লুইসগেট এলাকায় কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাইম (২৫) এবং সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস অনার্স কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লালের (২২) নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন এই হামলা চালান।
হামলায় গুরুতর আহত কালাম সরদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামলার সময় দোকানের ক্যাশ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং বাড়ি থেকে স্বর্ণের চেইন লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় মুদিদোকানদার মো. আনিছুর রহমান কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। রাত ৯টার দিকে তিনি দোকানে বসেছিলেন। এ সময় ২০ জনের একটি দল শ্রমিক লীগ নেতা কালাম সরদারকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে ওই দোকানে ঢুকে যান। হামলাকারীরা দোকানে ঢুকে কলাপাড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদারকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানকেও আঘাত করেন। পরে কালাম সরদার পেছনের দরজা দিয়ে আনিছুর রহমানের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং দরজা বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে রড দিয়ে কালাম সরদারকে মারধর করে। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে গেলে হামলাকারীরা ওলামা দলের নেতা আনিছুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তারকে রড দিয়ে আঘাত এবং গালিগালাজ করেন। এ সময় ঘরে থাকা রোকসানার পাঁচ বছরের নাতি আয়ান ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, হামলায় নেতৃত্বে কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাইমের বাড়ি বাদুরতলী এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মো. ইসমাইল। নেতৃত্বে থাকা আরেকজন হলেন মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস অনার্স কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল। তাঁর বাড়ি নীলগঞ্জ এলাকায়। অন্যদিকে হামলায় আহত সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদার কলাপাড়া শ্রমিক লীগের সভাপতি ছিলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যেন কোনো কর্মসূচি না করতে পারে, সে জন্য কালাম সরদারকে ধাওয়া ও তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানান এলাকাবাসী।
হামলায় আহত রোকসানা আক্তার বলেন, ‘আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি অনেক লোক আমার বাসার মধ্যে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এ সময় আমি নাতিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলাম। তারা রড দিয়ে আমার ডান হাতের কনুইয়ে আঘাত করে। হামলার পর আমার গলায় থাকা আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন খুঁজে পাচ্ছি না।’
হামলায় আহত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, ‘ছোট থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। কোনো দিন কোনো সুযোগ গ্রহণ করিনি। হামলার পর দোকানের ক্যাশে থাকা ১০ হাজার টাকা নেই। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’
৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা মো. বশির উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এলাকাবাসীর কাছে শুনেছি। এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
কলাপাড়া ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আনিছ ভাই এবং তাঁর পরিবারের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কলাপাড়া ওলামা দল এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।’
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিছু ভাঙচুরের আলামত পেয়েছি। উপজেলা বিএনপি এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে জানাব।’
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজি হুমায়ুন সিকদার বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতিকে সেখানে পাঠিয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
তবে এই হামলার ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করা হয়নি। কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘অসুস্থ নারী সদস্যকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় একটি রাজনৈতিক দল ছিল, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আজ পরিত্যক্ত ও জনগণ কর্তৃক বর্জিত হয়েছে। সর্বশেষ এটি নিষিদ্ধ হয়েছে, আর নিষিদ্ধ মানে তো নিষিদ্ধই।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতি চেয়েছে বলেই দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরাইয়া জান্নাত (১৯) নামে এক তরুণী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়ার চুনতি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, যেকোনো ধরনের নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব, সিটিটিসি এবং ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুট সুইপিং বা তল্লাশি করা হয়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত সুবিধাভোগী কৃষকদের অনুপস্থিতিতে তাঁদের নামে বরাদ্দকৃত বিনা মূল্যের সার ও ধানের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
