মাগুরার মহম্মদপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় আগামী ২৩ আগস্টের সব কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে মাগুরা জেলা বিএনপি।
স্থানীয়ভাবে বিএনপির একটি পক্ষ মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সমর্থিত মৈমুর আলী মৃধার গ্রুপ এবং অপর পক্ষ রবিউল ইসলাম নয়ন সমর্থিত মো. আক্তারুজ্জামানের গ্রুপ হিসেবে পরিচিত। দুই পক্ষের পৃথক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয় বলে জেলা বিএনপির দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
২২ আগস্ট মাগুরা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত নির্দেশনায় মৈমুর আলী মৃধা ও মো. আক্তারুজ্জামানকে আগামীকালের সব কর্মসূচি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান দুই গ্রুপের পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উপজেলায় উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্দেশ অমান্য করে কেউ কর্মসূচি পালন করলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা বিএনপির নির্দেশনার পর মৈমুর আলী মৃধার পক্ষ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ২৩ আগস্টের কর্মসূচি না করার কথা জানানো হয়েছে। তবে অপর পক্ষের পক্ষ থেকে একই ধরনের কোনো ভিডিও বার্তা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, ২২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে মহম্মদপুরে যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় কাটা বাঁশের তৈরি বেশ কিছু লাঠি পড়ে থাকতে দেখা যায়।পরে মহম্মদপুরের আরও একটি স্থানেও একই ধরনের বাঁশ দেখা যায়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে রাতের বেলায় এসব বাঁশের লাঠি পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে এসব বাঁশ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পক্ষ রেখেছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাঁশগুলো কে বা কারা সেখানে রেখেছিল, এর সঙ্গে ২৩ আগস্টের কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, রবিউল ইসলাম নয়ন তার ফেসবুক পোস্টে মহম্মদপুরের ২৩ আগস্টের সব কর্মসূচির বিরোধিতা করে নেতাকর্মী ও উপজেলাবাসীকে শান্ত থাকার এবং শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলা বিএনপির নির্দেশনা ও প্রশাসনের তৎপরতায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দুই পক্ষের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে রাতের বেলায় পাওয়া বাঁশের লাঠিগুলো নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
