নরসিংদীর পাঁচদোনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচদোনা এলাকার শাহিন মিয়ার ছেলে রনি মিয়া (৩২) ও মিজান মিয়ার ছেলে শুভ (১৯) আহত হন। এ সময় পিটুনিতে শ্রমিক নেতা আলম মিয়া (৫৫) এবং পথচারী পলাশ উপজেলার দড়িচল গ্রামের জামাল মিয়ার স্ত্রী লিজা বেগম (৩২) আহত হন।
একই ঘটনায় গতকাল বুধবার সকালে পুনরায় পাঁচদোনা মোড়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে নতুন করে কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাঁচদোনা মোড়ে অবস্থিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি লাল মিয়া এবং ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোসাদ্দেক হোসেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই জেরে গত মঙ্গলবার রাতে এবং বুধবার সকাল থেকে তাদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গুলাগুলির ঘটনা ঘটে।
লাল মিয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং মোসাদ্দেক হোসেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকনের কর্মী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলে মোসাদ্দেকের কর্মী রনির পায়ে ও শুভর পেটে গুলি লাগে। পিটুনিতে আহত হন আলম মিয়াসহ আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে জানতে মোসাদ্দেক ও লাল মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচদোনায় বিএনপি নেতা লাল মিয়া মেম্বার ও মোসাদ্দেক হোসেনের সমর্থকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এরই জেরে তারা সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
