বিএনপিতে যোগ দিলেন আ.লীগের সুবিধাভোগী দরগাহপুর ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান

আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সাবেক চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন গাজীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম ক্ষোভ, তীব্র বিতর্ক ও বিস্ফোরক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা ভোগ করা একজন বিতর্কিত নেতার হঠাৎ বিএনপিতে যোগদানকে তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা স্পষ্টভাবে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখছেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন জমির উদ্দিন গাজী। এ সময় আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস, সাবেক সদস্য সচিব মশিউর হুদা তুহিনসহ কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এতে তীব্র আপত্তি জানান।

স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে জমির উদ্দিন গাজী দীর্ঘ সময় ক্ষমতাসীন দলের সুবিধাভোগী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। সেই সময় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, মামলা, হামলা ও জেল-জুলুম চললেও তিনি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। আশাশুনির দরগাহপুর ইউনিয়নের একাধিক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি দুর্গাপুর বিএনপিকে ধ্বংস করার সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। জেলা বিএনপির কিছু অসাধু নেতা আওয়ামী লীগের লোকদের পুনর্বাসনের জন্য দলকে ব্যবহার করছে।

তারা আরও বলেন, যারা বিগত ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে, জেল খাটিয়েছে—তারা ২০২৬ সালে এসে বিএনপির ব্যানারে সুবিধা নেবে, এটা আমরা কখনোই মেনে নেব না।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগের দোসর ও সুবিধাভোগীদের সঙ্গে একই মঞ্চে বসাও তাদের জন্য অসম্ভব। তারা এই যোগদানকে বিএনপির ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে জর্জরিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নির্মম প্রতারণা বলে অভিহিত করেন।

এদিকে যোগদান অনুষ্ঠানে জমির উদ্দিন গাজী দাবি করেন, তিনি বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই দলে যোগ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে দলের জন্য কাজ করতে চান। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তার এই বক্তব্যকে সুবিধাবাদী নাটক হিসেবে আখ্যায়িত করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।

এই যোগদানকে কেন্দ্র করে দরগাহপুর ইউনিয়নসহ পুরো আশাশুনি উপজেলা বিএনপির ভেতরে চরম অসন্তোষ, বিভাজন ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিতর্কিত ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের দলে জায়গা করে দিলে বিএনপির তৃণমূল ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যতে দলীয় ঐক্য ও আন্দোলনে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email