বিএনপির দু’পক্ষের সংঘর্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ১০

কোম্পানিগঞ্জ থানা (ইনসেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন সংঘর্ষে আহতদের একজন)।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উতপ্ত উঠেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়ন। ওই এলাকায় টানা দুদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির দুপক্ষের নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্তত ১০ আহতের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে রোববারও ওই এলাকায় বিবাদমান দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষের মধ্যে রয়েছেন, চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, মামুন, হেলাল, খোকন, সোহেল, ইসমাঈলসহ কমপক্ষে ১০ জন।

স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চরএলাহী ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কোনো কমিটি নেই। তবে এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শক্তির মহড়ায় প্রয়াত আবদুল মতিন তোতা চেয়ারম্যানের ছেলে ইব্রাহিম তোতা, ইসমাইল তোতা, বাহাদুরের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ এবং বর্তমান ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা শাহাব উদ্দিনসহ স্থানীয় বেশ কিছু নেতাকর্মী দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে পড়েন।

এরই মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীর প্রচারণাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নেয় পক্ষ দুটি। এতে একটি গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রচারণাসহ নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করে আসছিল। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোববার ও সোমবার দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম আহত অবস্থায় জানান, বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলামের নির্বাচন করার কারণে আবদুল মতিন তোতা চেয়ারম্যানের ছেলেরা আমার ওপর হামলা চালায়। এসময় আমার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইসমাঈল তোতা জানান, মোস্তাফিজ মেম্বার ও সাহাব উদ্দিন গ্রুপ আমার বাবার হত্যাকারীদের নিয়ে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। আজ (সোমবার) সকাল থেকে বাদামতলী বাজারে আমাদের লোকজনকে মারধর করা হয়েছে। এ সময় বারেক, ইয়াছিন, বেলাল, রহিম বিশ্বাসকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে সমঝোতার বৈঠকের জন্য বাদামতলী বাজারে একা গেলে তারা আমার ওপরও হামলা চালায়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকিম বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
X
LinkedIn
Telegram
WhatsApp
Email