ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুপক্ষের অন্তত পাঁচজন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পৌর শহরের ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে প্রতীক পাওয়ার পর বিএনপি দলীয় প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকরা আনন্দ মিছিল করার জন্য ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল মাঠে জড়ো হন। এ সময় বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে তার কর্মী সমর্থকরা বড় একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের সামনের সড়ক অতিক্রম করছিল। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেনের অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রতীক পাওয়ার পর শান্তিপূর্ণ আনন্দ মিছিল নিয়ে ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের সামনের সড়ক অতিক্রম করার সময় বিএনপি দলীয় প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সমর্থকরা ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের ভেতর থেকে আমার আনন্দ মিছিলে হামলা করে। বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করে আমার কয়েকজন কর্মী সমর্থককে আহত করেছে।
বিএনপি দলীয় প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আমি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছিলাম। আমার কর্মী সমর্থকরা গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতরে আনন্দ মিছিলের জন্য অবস্থান করছিল। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে তার আনন্দ মিছিল থেকে স্কুলের ভেতর আমার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করে। এতে আমার কয়েকজন কর্মী সমর্থক আহত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিক্ষুব্ধ কর্মী সমর্থকরা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মুক্তার হোসেনের অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ করেছে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর আনন্দ মিছিল ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আমরা কাছাকাছি ছিলাম। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় দুই পক্ষের লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।
